
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ৭৫ হাজার ৮৩৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।বিজয়ের পর দুই উপজেলায় ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জে “ভরসার বাতিঘর” হিসেবে পরিচিত এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই এই বিপুল জয়ের মূল শক্তি। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এখনও মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে গেঁথে আছে।২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদকে ১৯ হাজার ৬৫৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি জাতীয় সংসদের সুগার সেক্টর ও রোড ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি রোটারিয়ান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।তার পূর্ববর্তী মেয়াদে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নকাজের মধ্যে রয়েছে—ঘাসিরপাড়া রোকেয়া বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তারাটিয়া লতিফ ফজিতননেছা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাঘারচর টালিয়াপাড়া সাবানুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসা ও খাতেমুন মঈন মহিলা কলেজ এমপিওভুক্তকরণ। এছাড়া দেওয়ানগঞ্জে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন, দুই উপজেলায় প্রায় ১০০টি কালভার্ট ও ২৫টির মতো ফুটব্রিজ নির্মাণ, ধানুয়া কামালপুর এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, দেওয়ানগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পৌর ভবন নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।২০০২–২০০৩ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ, হাসপাতালের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ, ডিজিটাল টেলিফোন সংযোগ স্থাপন এবং নিজ অর্থায়নে পোল্যাকান্দি এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ—এসব কাজ তাকে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে নিজ তহবিল থেকে অতিরিক্ত ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সেই সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রায় ৩০টি বিদ্যালয় নির্মাণ এবং ২৫০টির মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেন তিনি।সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছেও তার নেতৃত্ব, নীতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রশংসিত। বিশেষ করে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে হুমকির মুখে থাকা দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জের মানুষ মনে করছেন, নদীভাঙন রোধ ও টেকসই উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম নেতৃত্বের প্রয়োজন—আর সেই জায়গায় তারা এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতকেই উপযুক্ত মনে করছেন।দুই উপজেলার অনেকেই মনে করেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়া হলে অঞ্চলটি আরও এগিয়ে যাবে। স্থানীয়দের ভাষ্য—জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিজয়ী এই নেতাকে এবার মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তারা।